পাহাড়ের একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম ইউ কে চিংয়ের পরিবারে সহায়তার হাত বাড়াল প্রশাসন
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউ কে চিং-এর পরিবারে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত এই বীর সন্তানের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার বর্তমানে কষ্টে দিনযাপন করছে—এমন তথ্য প্রশাসনের নজরে এলে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, পরিবারের বর্তমান দুরবস্থার খবর পেয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন এবং খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশে ২৫ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বান্দরবান সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাঙ্গী পাড়ায় ইউ কে চিংয়ের বাসভবন পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধার সহধর্মিণী ৭৭ বছর বয়সী থুইসানু মারমা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, ফলমূল ও নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইউ কে চিং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মধ্যে একমাত্র ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৫২ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এ যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৬ নম্বর সেক্টরে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।
১৯৩৩ সালের ১০ মে বান্দরবানে জন্ম নেওয়া এই বীর যোদ্ধা ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রেখে যান। জীবদ্দশায় বিভিন্ন সহায়তা পেলেও তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে যায় বলে জানা গেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।