পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ, উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স ও উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠনের আশ্বাস মন্ত্রীর

পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ, উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স ও উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠনের আশ্বাস মন্ত্রীর

পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ, উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স ও উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠনের আশ্বাস মন্ত্রীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দায়িত্বগ্রহনের পর খাগড়াছড়িতে প্রথম সফরে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেছেন, তিন পার্বত্য জেলার মানুষ বিএনপি সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছে এবং সেই আস্থার মূল্যায়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাবে।

আজ সোমবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজ-এ স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না। সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ, উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স ও উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠনের আশ্বাস মন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে নতুন গতি আসবে।

মন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতকে সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে বলেন, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ ও স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি দীঘিনালা-সাজেক সড়ক প্রশস্তকরণের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও জানান।

পার্বত্য অঞ্চলে চাষযোগ্য জমির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।

পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ, উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স ও উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠনের আশ্বাস মন্ত্রীর

দুর্গম এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে পার্বত্য অঞ্চলের জীবনমান উন্নত করা হবে।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

মতবিনিময় সভায় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দেন। এ সময় ‘হেডম্যান অফিস’ নির্মাণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ, উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স ও উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠনের আশ্বাস মন্ত্রীর

মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে আমরা বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও আধুনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই।” একই সঙ্গে তিনি কর্মকর্তাদের জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, বিজিবির খাগড়াছড়ি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম, জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাতসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এটি পার্বত্য মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর খাগড়াছড়িতে প্রথম সফর। সকালে জেলায় পৌঁছালে জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *