সংস্কারের অভাবে সক্ষমতা হারাচ্ছে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই ইউনিট
![]()
নিউজ ডেস্ক
দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র’র দুটি ইউনিট দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো জ্বালানি প্রয়োজন না হওয়ায় দেশের সবচেয়ে কম খরচের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে মূলত সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহল না হওয়ায়।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের জেনারেটর বহনকারী ধাতব কাঠামোতে বহু আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ইউনিট দুটি এখন আর পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সেখান থেকে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রকৌশলীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ নম্বর ইউনিটটি সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হয়েছিল ২০১০ সালের জুন মাসে এবং ৫ নম্বর ইউনিটটির সংস্কার হয় ২০১১ সালের এপ্রিলে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এরপর আরও একবার বড় ধরনের ওভারহল হওয়ার কথা থাকলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে দুটি ইউনিটই বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় চালু রয়েছে।
বিদ্যুতের জাতীয় চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউনিট দুটি পুরোপুরি বন্ধ না করে অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে সচল রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রতি সপ্তাহে ইউনিটগুলোর বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে এবং প্রায়ই ওয়েল্ডিংয়ের মাধ্যমে ফাটল মেরামত করা হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হলে মাঝেমধ্যে ইউনিট দুটি বন্ধও রাখতে হচ্ছে।
প্রকৌশলীরা বলছেন, ইউনিট দুটির টারবাইন অংশের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা সম্ভব হলে আবারও পূর্ণ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির যন্ত্রপাতি জাপানের Toshiba-এর প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির মাধ্যমে সংস্কার কাজ করা সম্ভব নয়। এতে মেরামত ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটিতে অবস্থিত কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট। পাঁচটি ইউনিট নিয়ে পরিচালিত এই কেন্দ্রটি দেশের সবচেয়ে কম উৎপাদন ব্যয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। কখনো কখনো এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ এক টাকারও নিচে নেমে আসে। কিন্তু সময়মতো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রটির গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না, যা জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।