গুইমারায় জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট নিরসনে তৈমাতাই-পিলাক খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট নিরসনে তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও পানিপ্রবাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি এলাকায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল তামান্না।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগ, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহ জালাল কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও সহ-সভাপতি নারায়ণ ত্রিপুরাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ‘ইজিপিপি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈমাতাই খাল এবং ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খাল দুটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। ফলে বর্ষাকালে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, খাল দুটি পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও কৃষি উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। গুইমারা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। এলাকার কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।
উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট অনেকাংশেই কেটে যাবে। এতে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং দীর্ঘকাল ধরে চলমান দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল তামান্না বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে নতুন নতুন কৃষিজমি চাষের আওতায় আসবে এবং সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খালের প্রবাহ সচল রাখতে এবং স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ খনন কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খনন শেষে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে স্থানীয় জনগণ এর সরাসরি সুফল পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে খালের দুই পাড়ে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া খনন কাজ শেষ হলে হালদা নদী-এর সালদা অংশে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা সমস্যারও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। তারা জানান, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হলে কৃষিকাজে নতুন গতি ফিরবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও চাঙা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে কয়েকটি গাছের চারা রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।