বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ৫টি দেশে মোদির সফর ভারতের জন্য কৌশলগত মাইলফলক: শ্রিংলা
![]()
নিউজ ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই ১৫ থেকে ২০ মে পর্যন্ত পাঁচ দেশ সফরে নেমে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি– এমনটাই মনে করছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজ্যসভার সদস্য হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি ঘিরে এ উচ্চপর্যায়ের সফরকে তিনি ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্রিংলা বলেন, এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন বিশ্ব নানা ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ভারতের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
সফরের প্রথম গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বল্প সময়ের অবস্থান হলেও তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রিংলা বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও আমিরাত ভারতের ওপর দৃঢ় আস্থা দেখিয়েছে।
দেশটি ভারতের অর্থনীতিতে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে সামরিক সম্পর্ককে নতুন আকার দেবে।
তিনি আরও জানান, আমিরাত শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক অংশীদার নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ভারতের একটি কৌশলগত প্রবেশদ্বার। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও এ সফরের মাধ্যমে আরও মজবুত হয়েছে।
নেদারল্যান্ডস সফর নিয়ে শ্রিংলা বলেন, এটি ভারতের উচ্চপ্রযুক্তি, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ডাচ সরকার প্রযুক্তি স্থানান্তর ও উৎপাদন বাড়াতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরিতে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা ভারতের টেকসই উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
ইউরোপের উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলো– বিশেষ করে সুইডেন ও নরওয়ের সঙ্গে সহযোগিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে বলে জানান শ্রিংলা। সবুজ হাইড্রোজেন, টেকসই জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর জ্বালানি প্রযুক্তিতে এই সহযোগিতা নতুন অধ্যায় খুলছে। তিনি বলেন, এই দেশগুলো ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের অর্থনৈতিক অংশীদার হলেও মোদির সফর সেই সম্পর্ককে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন স্তরে’ নিয়ে গেছে।
বিশেষ করে নরওয়ে সফরকে তিনি ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। চার দশকেরও বেশি সময় পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সেখানে যাওয়া, তার মতে, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক স্থবিরতা ভেঙে দিয়েছে। নরওয়ের বিপুল বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং প্রযুক্তি ভারতের সবুজ জ্বালানি খাতে বড় অগ্রগতি আনতে পারে।
শ্রিংলা বলেন, বর্তমানে বিশ্ব ভারতকে একটি ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির দ্বীপ’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। তার কথায়, বিশ্বের নানা সংকটের মধ্যে ভারত একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। দেশগুলো এখন ভারতের সঙ্গে কাজ করতে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, এই সফরের মাধ্যমে ভারত শুধু অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক সুবিধাই অর্জন করেনি, বরং সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা, বহু-বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিজেকে ভবিষ্যতের একটি স্থিতিশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।