সেনাবাহিনীর সহায়তায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ, অপারেশনের জন্য চট্টগ্রামে গেলেন ১৭ রোগী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেকের পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ১৭ জন চক্ষুরোগীকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অপারেশনের জন্য চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে পাঠিয়েছে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন। সেনাবাহিনীর উদ্যোগ ও সহায়তায় নির্বাচিত এসব রোগীর জন্য শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা নয়, চট্টগ্রামে গিয়ে অপারেশন করানোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চক্ষু চিকিৎসাসেবার আওতায় নির্বাচিত ১৭ জন রোগীকে চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে চক্ষুজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য এ ধরনের চিকিৎসাসেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাজেকের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো থেকে চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং অপারেশন সম্পন্ন করা অনেক রোগীর জন্য সময় ও অর্থের দিক থেকে কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি দূরপাল্লার যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় চিকিৎসা গ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেনাজোনের পক্ষ থেকে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেওয়ায় নির্বাচিত রোগীদের উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোখের বিভিন্ন জটিলতা সময়মতো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অপারেশন করা না হলে তা রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মক্ষমতা এবং দৈনন্দিন চলাফেরায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে অনেকেই অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যাকে অবহেলা করেন। ফলে প্রয়োজনের সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার আওতায় আনা এবং অপারেশনের সুযোগ করে দেওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাঘাইহাট জোনের এই উদ্যোগে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভূমিকা রাখছে। দুর্গম পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করায় স্থানীয় পর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নিয়মিত চিকিৎসা ক্যাম্প, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে যেখানে সরকারি বা বেসরকারি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সহজে পাওয়া যায় না, সেখানে রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে সহায়তা করা স্থানীয় মানুষের জন্য বাস্তব উপকার বয়ে আনে।
চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ চোখের সমস্যায় আক্রান্ত অনেক মানুষ দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। তাই সাজেকের ১৭ রোগীকে চট্টগ্রামে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর উদ্যোগকে দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাঘাইহাট জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এলাকার সাধারণ মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও জোরদারে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।