উখিয়ায় যানজট নিরসনে প্রশাসনের হার্ডলাইন, ৭ দিনের আল্টিমেটাম
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া উপজেলার ব্যস্ততম বাজার ও স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সড়ক দখল, অবৈধ স্থাপনা এবং অনিয়ন্ত্রিত হকারদের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোয় প্রশাসন ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভায় বিভিন্ন সদস্য উখিয়ার তীব্র যানজটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। সভায় বিশেষ করে কোর্টবাজার, রাজাপালং, মরিচ্যা, কুতুপালংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে সড়ক দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক বৈঠক করে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনে সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও হকারদের নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে ৭ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সবচেয়ে ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র কোর্টবাজার পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, জনস্বার্থে সড়ক দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করলে মাইকিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা নয়; ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তাদের জন্য বিকল্প পুনর্বাসনের বিষয়েও আন্তরিকভাবে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন, যাতে জনস্বার্থ ও জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অতীতেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও সেগুলোর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে এবার প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সমন্বিতভাবে কাজ করলে উখিয়াকে স্থায়ীভাবে যানজটমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হলেও উখিয়ার বিভিন্ন বাজার এলাকায় অবৈধ দখল, সড়কের ওপর দোকানপাট, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন পার্কিং এবং হকারদের কারণে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুম ও সরকারি ছুটির দিনে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।