দুর্গম পাহাড়ে দক্ষতার আলো ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী, লংগদুতে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ শুরু

দুর্গম পাহাড়ে দক্ষতার আলো ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী, লংগদুতে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ শুরু

দুর্গম পাহাড়ে দক্ষতার আলো ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী, লংগদুতে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ শুরু
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের দক্ষ করে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার তরুণদের কাছে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম দুর্গম জনপদের তরুণদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধীন লংগদু জোনের ব্যবস্থাপনায় আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার ৪৮ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। বিনামূল্যে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণের আওতায় কম্পিউটার পরিচালনা, মোবাইল ফোন রিপেয়ারিং, মেকানিক্যাল রিপেয়ারিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এসব বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে নিজেদের এলাকায় ছোট পরিসরে বিভিন্ন সেবামূলক ও আয়মুখী কাজ শুরু করতে পারবেন। এতে চাকরির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথও তৈরি হতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদের বাস্তবতায় এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি। পাহাড়ি এলাকার অনেক তরুণ-তরুণী ভৌগোলিক দুর্গমতা, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক কারণে শহরকেন্দ্রিক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ পান না। ফলে প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তাদের জন্য সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার একটি কার্যকর সুযোগ তৈরি করছে।

লংগদু জোন সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কম্পিউটার পরিচালনা ও মোবাইল ফোন রিপেয়ারিংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বর্তমান সময়ে স্থানীয় পর্যায়েই আয় করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মেকানিক্যাল রিপেয়ারিংয়ের প্রশিক্ষণও বাস্তব জীবনে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জন্য সামাজিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয় তরুণদের একটি অংশ প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত হলে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকায় এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। এতে একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তরুণরা প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ হয়ে উঠছেন। তাদের মতে, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলে এ উদ্যোগের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। দুর্গম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার মাধ্যমে সেই মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের দুর্গম জনপদে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ায় এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। লংগদুতে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ধাপ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। দুর্গম পাহাড়ের তরুণদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতেও অব্যাহত ও সম্প্রসারিত হলে এর সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।