পার্বত্যাঞ্চলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন পার্বত্য মন্ত্রী

পার্বত্যাঞ্চলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন পার্বত্য মন্ত্রী

পার্বত্যাঞ্চলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন পার্বত্য মন্ত্রী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষার পাশাপাশি আধুনিক কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, বিকল্প ও লাভজনক কৃষি সম্প্রসারণ এবং সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পার্বত্য মন্ত্রী এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সামগ্রিক কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং দুই মন্ত্রণালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু কৃষি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষি সম্ভাবনা, দুর্গম এলাকার কৃষকদের বাস্তবতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ক্ষতিকর তামাক ও নেশাজাতীয় উদ্ভিদ চাষ পুরোপুরি বন্ধ করাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর পরিবর্তে কৃষকদের জন্য লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প কৃষির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সমতলের কৃষকদের মতো পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদেরও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও চাষাবাদ পদ্ধতিতে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পার্বত্যাঞ্চলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন পার্বত্য মন্ত্রী

পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, কৃষি বিপ্লবের এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময় এখনই। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে পাহাড়ি কৃষকদের সম্পৃক্ত করা গেলে সীমিত জমি ও বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কফি, কাজুবাদাম, হলুদ, ইক্ষু ও বাঁশের মতো সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণেই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের বাজারব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণের সমন্বয় ঘটাতে পারলে পাহাড়ি এলাকার কৃষি একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পার্বত্য মন্ত্রীর উদ্যোগ ও প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, পাহাড়ি ও সমতল—উভয় এলাকার কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে।

দুই মন্ত্রীর বৈঠকে উঠে আসা আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষির সম্ভাবনাকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ক্ষতিকর ও অনুৎপাদনশীল চাষের পরিবর্তে আধুনিক, নিরাপদ ও বাজারমুখী কৃষি সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ি কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি এ অঞ্চলের অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারি দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।