মহালছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২১ দিনের কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ২২ তরুণের

মহালছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২১ দিনের কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ২২ তরুণের

মহালছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২১ দিনের কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ২২ তরুণের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ২১ দিনব্যাপী ‘মেকানিক্যাল ও রিপেয়ার প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২২ জন যুবক অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের হাতে-কলমে কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তবমুখী দক্ষতা গড়ে তোলার উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় মহালছড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহালছড়ি জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন তাহমিদ সামিন সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন মহালছড়ি জোনের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আব্দুল মালেক।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মেজর মো. আব্দুল মালেক প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণে মেকানিক্যাল কাজের বিভিন্ন খুঁটিনাটি, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি মেরামত এবং আধুনিক কারিগরি বিষয়ে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে হাতে-কলমে কাজ শেখানোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে তোলাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

মহালছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২১ দিনের কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ২২ তরুণের

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের জন্য এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিশেষভাবে রয়েছে। ভৌগোলিক বাস্তবতা, সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অনেক তরুণের নিজস্ব দক্ষতা বিকাশের সুযোগ সীমিত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে বা সহজলভ্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

আয়োজকরা জানান, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার বেকার ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তিতে পরিণত করা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং যুবসমাজকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করাও এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

মেকানিক্যাল ও রিপেয়ারিংয়ের মতো ব্যবহারিক দক্ষতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে স্থানীয় পর্যায়েও। যানবাহন, কৃষি ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কিংবা ছোটখাটো বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম নষ্ট হলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে অনেক সময় দূরের বাজার বা শহরের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত তরুণরা এসব কাজে দক্ষ হয়ে উঠতে পারলে একদিকে যেমন নিজের আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে।

একজন তরুণের হাতে একটি বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতা তুলে দেওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে না; এর সঙ্গে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাও যুক্ত থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের উদ্যোগে ছোট পরিসরে মেরামতকেন্দ্র বা কারিগরি সেবা চালু করতে পারলে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

মহালছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২১ দিনের কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ২২ তরুণের

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাহাড়ের তরুণদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত প্রয়োজন। তরুণদের দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ কারণে মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত ২১ দিনের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে এ উদ্যোগে উৎসাহ-উদ্দীপনাও দেখা গেছে। তাদের মতে, নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া স্থানীয় জনগণের জন্য বাস্তব উপকার বয়ে আনছে। বিশেষ করে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের এ উদ্যোগের অন্যতম তাৎপর্য হলো—তরুণদের শুধু সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরা যদি অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে এর সুফল ব্যক্তি ও পরিবার ছাড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতি পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের তরুণদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণের আওতায় এনে উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানো সম্ভব। মহালছড়ি জোনের ২১ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই লক্ষ্যেই একটি গঠনমূলক উদ্যোগ হিসেবে স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।