বান্দরবান পৌরসভার ২০ বছরের মহাপরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন

বান্দরবান পৌরসভার ২০ বছরের মহাপরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন

বান্দরবান পৌরসভার ২০ বছরের মহাপরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবান পৌরসভার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে ২০ বছরের খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন ও মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, আবাসন, যোগাযোগ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আইইউজিআইপি) আওতায় বান্দরবান পৌরসভা মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেডের সহযোগিতায় বান্দরবান পৌরসভার খসড়া মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয়। এ সময় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের অগ্রগতি, ইতোমধ্যে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত, পৌর এলাকার বিদ্যমান সমস্যা এবং এসব সমস্যা মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় ২০ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা, ১০ বছরের নগর এলাকা পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এ পরিকল্পনার মাধ্যমে পৌর এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় ভূমি ব্যবহার, আবাসন ও বসতি উন্নয়ন, পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক সুবিধা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। পাহাড়ি ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের বান্দরবান পৌর এলাকার জন্য পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে নগর সম্প্রসারণের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বান্দরবান পৌরসভার ২০ বছরের মহাপরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন

এ ছাড়া ১০ বছরের নগর এলাকা পরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও নৌ যোগাযোগ, নদী-খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। নগরবাসীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব সেবা কীভাবে উন্নত ও সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাতভিত্তিক সমন্বিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন, অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প ও নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় বাস্তবতা, নাগরিক চাহিদা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে এসব মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে খসড়া মহাপরিকল্পনাকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটি পৌর এলাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে সমন্বিত ও পরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে আনতে মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ভূমি ব্যবহার, যোগাযোগ, আবাসন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সুবিধার মতো খাতগুলোকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রসঙ্গত, বান্দরবান পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। এর আয়তন ৩ হাজার ৯২৩ দশমিক ৫৬ একর বা ১৫ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভাটিতে ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বান্দরবান পৌরসভার জনসংখ্যা ৫৪ হাজার ৪৫০ জন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।