প্রশিক্ষণ শেষে ২০ জন পেলেন সেলাইমেশিন, স্বাবলম্বিতার পথে দীঘিনালার পাহাড়ি-বাঙালি নারীরা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি-বাঙালি নারীদের ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করে তুলতে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তিন মাসব্যাপী সেলাইমেশিন প্রশিক্ষণ শেষে ২০ নারী প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সেলাইমেশিন ও সনদপত্র তুলে দিয়েছে সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সরঞ্জাম হিসেবে সেলাইমেশিন পাওয়ায় নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে সুবিধাভোগী নারীদের সামনে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বেলা আড়াইটায় দীঘিনালা জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ শেষে ২০ জন অসহায় পাহাড়ি ও বাঙালি নারী প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে সেলাইমেশিন ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে দীঘিনালা জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন মো. শায়খউদ্দীন সাকলাইন, অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয় ও মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে সরাসরি কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়ার এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ তৈরি করলেই অনেক সময় দরিদ্র পরিবারের নারীরা প্রশিক্ষণ শেষে কাজ শুরু করতে পারেন না। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার সামর্থ্য না থাকায় অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। সেই বাস্তবতায় প্রশিক্ষণের পর সেলাইমেশিন হাতে পাওয়ায় এসব নারীর জন্য ঘরে বসেই কাজ শুরু করার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একটি সেলাইমেশিন একজন নারীর জন্য শুধু একটি যন্ত্র নয়; এটি নিয়মিত আয়, পারিবারিক স্বচ্ছলতা এবং আত্মনির্ভরতার একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। পোশাক তৈরি, কাপড় মেরামত, স্কুলড্রেস, শিশুদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সেলাইয়ের কাজের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে সেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার অনেক পরিবারে নারীদের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ সীমিত। এমন বাস্তবতায় বাড়িতে বসে সেলাইয়ের কাজ করার সুযোগ নারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ ও বাস্তবসম্মত কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের দেখাশোনার পাশাপাশি আয় করার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।

দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পাহাড়ি ও বাঙালি—দুই সম্প্রদায়ের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের একই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া। এতে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার সুযোগও তৈরি হয়। জনকল্যাণমূলক এমন উদ্যোগে জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সমন্বিত চিত্রও ফুটে ওঠে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের হাতে একটি ব্যবহারিক দক্ষতা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে সেলাইমেশিন দেওয়ার ফলে সেই দক্ষতাকে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন সময় শিক্ষা, চিকিৎসা, মানবিক সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এসব উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় জনগণের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা। দীঘিনালায় সেলাইমেশিন প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম বিতরণও সেই ধারাবাহিকতায় কর্মমুখী দক্ষতা ও স্বাবলম্বিতার সুযোগ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সেলাইমেশিন ও সনদপত্র হাতে পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা সেলাইয়ের কাজ শিখেছেন এবং এখন সেলাইমেশিন পাওয়ায় সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ও পরিবারের জন্য আয় করার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সরাসরি কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তাঁদের অর্জিত দক্ষতাকে আয়ের উৎসে পরিণত করার পথও তৈরি হয়েছে। ফলে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সুফল থেমে না গিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের নিজস্ব কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।