মিয়ানমার সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে মিজোরামের লংতলাইয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ

মিয়ানমার সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে মিজোরামের লংতলাইয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ

মিয়ানমার সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে মিজোরামের লংতলাইয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় অবৈধ আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের মিজোরামের লংতলাই জেলা প্রশাসন। সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী পণ্য ও যানবাহন কঠোরভাবে তদারকির পাশাপাশি অবৈধভাবে যানবাহন চলাচল ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত কার্যক্রমের বিষয়ে পাওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নজরদারি আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে পরিবহন করা পণ্যসম্ভার যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অবৈধ পণ্য ও যানবাহন চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে লংতলাইয়ের ডেপুটি কমিশনার ডনি লালরুয়াতসাঙ্গা কর্মকর্তাদের সীমান্ত দিয়ে পরিবহন করা পণ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে যানবাহন চলাচল ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসন, মিজোরাম পুলিশ, আসাম রাইফেলস, লাই অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল এবং সেন্ট্রাল ইয়াং লাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে সীমান্তপারের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের (কেএমএমটিটিপি) আওতাধীন জোরিনপুই সড়কের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ার সঙ্গে আগামী বছরগুলোতে এ সড়ক দিয়ে পণ্য ও যানবাহন চলাচল আরও বাড়তে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। ফলে এ রুটে আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সীমান্তসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিজোরামের ছয়টি জেলা—লংতলাই, সিয়াহা, সাইতুয়াল, সেরছিপ, খাওজল ও হ্নাহতিয়াল—মিয়ানমারের চিন রাজ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। ফলে এসব সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য, যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত নজরদারি ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed