লামায় সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়মের অভিযোগ, রিকশাচালক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

লামায় সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়মের অভিযোগ, রিকশাচালক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

লামায় সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়মের অভিযোগ, রিকশাচালক সমিতির সংবাদ সম্মেলন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের লামা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ‘লামা রিকশা চালক সমবায় সমিতি লিঃ’। সমিতির নির্বাচিত কমিটিকে প্রশাসনিক বৈধতা দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি এবং সাধারণ সদস্যদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সমিতির নেতারা। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) লামা বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, আইনানুগভাবে নির্বাচিত কমিটিকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ না দিয়ে প্রশাসনিক বৈধতা দেওয়ার বিনিময়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করছেন। দাবি করা অর্থ না দেওয়ায় তাদের কার্যালয়ে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সমিতির নেতাদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সমিতির সভাপতি মো. বাদশা মিয়া, সহসভাপতি মো. মোজাম্মেল উদ্দিন, সদস্য মাইনুদ্দিন, হাবিল মিয়া ও মো. সুরুজ মিয়া পরস্পর যোগসাজশে বিকল্প রসিদ বই ছাপিয়ে ভুয়া রসিদের মাধ্যমে সাধারণ রিকশাচালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা ও সঞ্চয় আদায় করছেন।

অভিযোগে দাবি করা হয়, রিকশাচালকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে আত্মসাৎ করছেন। পাশাপাশি সাধারণ সদস্যদের এসব অর্থের কোনো হিসাব দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা দীর্ঘদিন ধরে সমিতির পরিচালনা নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

তবে সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লামা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা। তিনি বলেন, “আমার টাকা দাবি করার বিষয়টি সত্য নয়। তাদের মধ্যে বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান কমিটি এজিএমের মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদ সংস্কার করেছে। অভিযোগের বিষয়ে আমার তদন্ত রিপোর্ট এখনো দেওয়া হয়নি।”

এদিকে, সমিতির সাধারণ রিকশাচালকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সমিতির আর্থিক লেনদেন ও পরিচালনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *