ত্রিপুরায় প্রায় চার মাস হেফাজতে থাকা নাবালিকাকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের ত্রিপুরা হাইকোর্ট প্রায় চার মাস ধরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা থাকা এক নাবালিকাকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। বাবার দায়ের করা হেবিয়াস করপাস আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার আদালত এ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি এস দত্ত পুরকায়স্থের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নাবালিকাকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখার বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দিতে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাবালিকাটির বাবা ধলাই জেলার গান্ধাছড়া এলাকার বাসিন্দা। তার আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মনের দাবি, গত ২৩ মে কয়েকজন নারী তাদের বাড়িতে গিয়ে নাবালিকাটিকে মারধর করেন। এ ঘটনায় তার বাবা গান্ধাছড়া থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন।
আইনজীবীর অভিযোগ, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বাবা-মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও পুলিশ বাড়ি থেকে নাবালিকাটিকে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধলাই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হেফাজতে দেওয়া হয়।
মেয়েকে ফেরত পেতে নাবালিকাটির বাবা ধলাইয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে একাধিকবার আবেদন করেন বলে দাবি করেন তার আইনজীবী। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে শেষ পর্যন্ত তিনি হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস আবেদন করেন।
বুধবারের শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে জবাব চান। আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, নাবালিকাটিকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখার আইনগত ভিত্তি রাজ্যপক্ষ আদালতের সামনে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, নাবালিকাটিকে আগরতলার অভয়নগরের একটি হোমে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হেফাজতে রাখা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে জুভেনাইল জাস্টিস আইনের প্রয়োজনীয় বিধান ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
আদালত এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নাবালিকাটিকে মুক্তির নির্দেশটি অন্তর্বর্তীকালীন। তাকে হেফাজতে রাখার বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে হেবিয়াস করপাস আবেদনে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, পরবর্তী শুনানিতে সেগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।