পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ৯ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ৯ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ৯ সন্ত্রাসী নিহত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ৯ জন ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র। জিও নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিরাপত্তা সূত্র জানায়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের পালাংজাই, নাদিম কোট ও কোট খাজরি এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযানে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

এর এক দিন আগেই খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে পৃথক কয়েকটি অভিযানে ভারত-সমর্থিত ১৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল নিরাপত্তা সূত্র। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গিদের কয়েকটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দাবি করা হয়।

অন্যদিকে, বেলুচিস্তানের মাস্তুংয়ে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর বিরুদ্ধে পৃথক অভিযানে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে জানায় নিরাপত্তা সূত্র।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানে আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে এ ধরনের হামলার প্রবণতা বেশি।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গত ১২ বছরের মধ্যে পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে ২২৫টি জঙ্গি হামলা হয়েছে। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১৯৯টি। অর্থাৎ এক মাসে হামলা বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। টানা তৃতীয় মাসের মতো জঙ্গি হামলার সংখ্যা বেড়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতি অভিযোগ করে আসছে, দেশটির ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য ব্যবহার না হয়। ইসলামাবাদের দাবি, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে কাবুল।

এ নিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও মতপার্থক্য কাটেনি। আফগান ভূখণ্ডে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি ও সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় হয়ে রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *