মিয়ানমারে দারিদ্র্য ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

মিয়ানমারে দারিদ্র্য ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

মিয়ানমারে দারিদ্র্য ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারের ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে ৩ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার অথবা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন। দেশটির মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি বলে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইউএনডিপির সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ মানুষের ওপর পরিচালিত দেশব্যাপী একটি পারিবারিক জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে শুধু আয় দিয়ে দারিদ্র্য পরিমাপ না করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং অন্যান্য সামাজিক বঞ্চনার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে মানুষের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ জনসংখ্যার ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন। আরও ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ, দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশটির ৬৮ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্যের শিকার অথবা দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইউএনডিপির পরিচালক কানি উইগনারাজা বলেন, মিয়ানমার হয়তো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছে না, কিন্তু দেশটির লাখো মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। তিনি বলেন, সেখানে দারিদ্র্যের গভীরতা মানব উন্নয়নকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই যুদ্ধে কেউ জিতছে না, বরং সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের মূল সক্ষমতা পরিকল্পিতভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকার মানুষ দারিদ্র্যের বেশি শিকার। অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দারিদ্র্যের তীব্রতা ও বিস্তারের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে রাখাইন রাজ্যের নাম। সেখানে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ সবচেয়ে তীব্র বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন।

মোট দরিদ্র মানুষের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাগাইং অঞ্চল। সেখানে প্রায় ২৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ তুলনামূলক কম তীব্রতার বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরাবতী অঞ্চল।

ইউএনডিপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দুর্বলতার পাশাপাশি নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ কাজ করছে। কম শিক্ষার হার, অনিরাপদ কর্মসংস্থান ও সীমিত আয় মানুষের দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সশস্ত্র সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন ও কারেনি—যা কায়াহ নামেও পরিচিত—রাজ্যে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে দারিদ্র্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। সংঘাতের কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন; একই সঙ্গে জীবিকা ও মৌলিক সেবায় তাঁদের প্রবেশাধিকারও সীমিত হয়ে পড়ছে।

দারিদ্র্য মোকাবিলায় ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহায়তা কার্যক্রমে একদিকে সংঘাতকবলিত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিবিড় সহায়তা দিতে হবে, অন্যদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষের কাছেও সহায়তা পৌঁছাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও মানুষের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী সহায়তার ধরন নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *