সেনাবাহিনীর সহায়তায় চক্ষু অপারেশন শেষে সাজেকে ফিরলেন ১৭ পাহাড়ি-বাঙালি রোগী

সেনাবাহিনীর সহায়তায় চক্ষু অপারেশন শেষে সাজেকে ফিরলেন ১৭ পাহাড়ি-বাঙালি রোগী

সেনাবাহিনীর সহায়তায় চক্ষু অপারেশন শেষে সাজেকে ফিরলেন ১৭ পাহাড়ি-বাঙালি রোগী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদে চিকিৎসাসেবার সুযোগ নিশ্চিত করতে রাঙামাটির সাজেকে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের মানবিক উদ্যোগে চট্টগ্রামের লায়ন্স হসপিটালে চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশন শেষে ১৭ জন পাহাড়ি ও বাঙালি রোগী সুস্থ হয়ে সাজেকে ফিরে এসেছেন। উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত দুর্গম এলাকার এসব মানুষের জন্য সেনা জোনের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে।

সাজেকের দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অনেক মানুষের পক্ষে চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী শহরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং অপারেশনের ব্যয় বহন করা কঠিন। এ বাস্তবতায় সেনা জোনের উদ্যোগে তাদের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা হয়।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় চক্ষু অপারেশন শেষে সাজেকে ফিরলেন ১৭ পাহাড়ি-বাঙালি রোগী

বাঘাইহাট জোনের নিজস্ব অর্থায়নে ১৭ জন রোগীকে চট্টগ্রামের লায়ন্স হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চক্ষু অপারেশনও সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসা শেষে রোগীরা সুস্থ ও নিরাপদে সাজেকে ফিরে আসেন।

চিকিৎসা শেষে সাজেকে ফিরে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করায় সেনা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুর্গম এলাকায় বসবাস করেও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় চক্ষু অপারেশন শেষে সাজেকে ফিরলেন ১৭ পাহাড়ি-বাঙালি রোগী

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, দূরত্ব এবং আর্থিক সক্ষমতার অভাবে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে চোখের বিভিন্ন জটিলতায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য জেলা বা বিভাগীয় শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রোগী শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে দূরবর্তী হাসপাতালে নেওয়া, চিকিৎসা ও অপারেশনের ব্যবস্থা এবং পরে তাদের নিজ এলাকায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ বাস্তবিক অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ।

বাঘাইহাট জোনের এ ধরনের মানবিক সহায়তা শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগই তৈরি করছে না, দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতনতাও বাড়াচ্ছে। পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গম পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সেনা জোন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *