শিক্ষা-মানবকল্যাণ থেকে রোবোটিক্স গবেষণা, খাগড়াছড়িতে পাঁচ গুণী পেলেন ‘স্পৃহা সম্মাননা’
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
শিক্ষা বিস্তার, মানবকল্যাণ, ক্রীড়া উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিকাশ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে খাগড়াছড়িতে পাঁচ গুণী ব্যক্তিকে ‘স্পৃহা সম্মাননা’ দেওয়া হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা কৃতী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আঞ্চলিক নাগরিক সংগঠন ‘স্পৃহা’ এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খাগড়াছড়ি সদরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক বোধিসত্ত্ব দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে মানবিক চিকিৎসায় অবদানের জন্য ডা. শহীদ তালুকদার, মানবকল্যাণে উখেংচিং মারমা, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কণ্ঠশিল্পী আবুল কাশেম, ক্রীড়াক্ষেত্রে জ্যোতিষ বসু ত্রিপুরা এবং রোবোটিক্স গবেষণায় জয়তু খীসাকে ‘স্পৃহা সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, মং সার্কেল চিফ সাচিংপ্রু চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগঠক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, খাগড়াছড়ির শিক্ষা, মানবকল্যাণ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কৃতী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি ও উৎসাহিত করতেই ‘স্পৃহা সম্মাননা’র আয়োজন করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীরবে কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের অবদানকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
একটি সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতিতে শিক্ষা, মানবকল্যাণ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি-গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেন, তাঁদের অবদান অনেক সময় বৃহত্তর পরিসরে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় না। এ ধরনের সম্মাননা তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও মানুষকে জনকল্যাণমূলক ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে রোবোটিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো আধুনিক গবেষণাক্ষেত্রে স্থানীয় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আয়োজকরা। একইভাবে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত পাঁচ গুণী ব্যক্তির নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান তুলে ধরা হয় এবং তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্পৃহা সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণী ও কৃতী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, মানবিকতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চাও সেই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এসব ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া হলে সমাজে ইতিবাচক কাজের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হয়। খাগড়াছড়িতে পাঁচ গুণী ব্যক্তিকে দেওয়া ‘স্পৃহা সম্মাননা’ সেই ধারায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।